জার্নাল ডেস্ক
24 June 2019
  • No Comments

    গফরগাঁ কলেজে নিয়োগ বাণিজ্যের তদন্তে নেমেছে শিক্ষা বোর্ড ! ধামাচাপার চেষ্টায় অধ্যক্ষ

    প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ:ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার হুরমত উল্লাহ কলেজে ৬ জন শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্তে নেমেছেন ময়মনসিংহ শিক্ষা র্বোড। এনিয়ে কলেজের ভেতরে-বাইরে তোলপাড় সৃষ্টি হলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে খোদ কলেজ অধ্যক্ষ মীর মোজাম্মেল হোসেন মানিকের বিরুদ্ধে।
    তদন্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক শেখ মো: হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফজলুর রহমান ২০১৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারী কলেজে অধ্যক্ষের প্রত্যক্ষ মদদে অবৈধভাবে ৬ জন শিক্ষক নিয়োগে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেছেন। ওই অভিযোগ সরেজমিনে তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দশ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
    দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা গফরগাঁও উপজেলা কৃষি অফিসার দ্বীপক কুমার পাল জানান, উভয় পক্ষকে ডেকে বক্তব্য শুনা হচ্ছে। এতে কিছু সত্য-মিথ্যা রয়েছে বলে ধারনা করা যায়। তবে সরেজমিনে তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
    কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফজলুর রহমান অভিযোগে দাবি করেন, ২০১৫ সালে কলেজের অধ্যক্ষ মীর মোজাম্মেল হোসেন মানিক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। নিয়োগ প্রাপ্তরা হলেন- হিসাব বিজ্ঞানের শিক্ষক লুলু আফরোজা, কৃষি শিক্ষার মাসুদ আহমেদ, পদার্থ বিজ্ঞানের মাহিরুল ইসলাম, রসায়নের আতা উল্লাহ, জীব বিজ্ঞানের শাহরিন মুস্তারি রোমা, গণিতের রাফিয়াতুল রিফা। ওই সময় কলেজ অধ্যক্ষ জালিয়াতির মাধ্যমে কলেজের মানবিক, বিজ্ঞান, বানিজ্য এবং বি-এম শাখা চালু দেখিয়ে নিয়োগ প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাণিজ্য করেছেন। একই সময়ে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে উপজেলার যশরা গ্রামের রুবেল মিয়ার কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা চাকরী দেওয়ার নামে ঘুষ নেন অধ্যক্ষ মীর মোজাম্মেল হোসেন মানিক। তখন চাকরীর আশ^াসে রুবেল এক বছর বিনা বেতনে কলেজে পাঠদান করান। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে চাকরি না দিয়ে ভালুকা উপজেলার এক নারী শিক্ষিকার কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে অবৈধ ভাবে নিয়োগ দেন।
    তবে কলেজ অধ্যক্ষ মীর মোজাম্মেল হোসেন মানিক বলেন, নিয়ম মেনেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগে কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি। তদন্তে প্রমান মিলবে। আমি তদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবিত করার চেষ্টা করছি না।
    এবিষয়ে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. গাজী হাসান কামাল বলেন, তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন হাতে পেয়ে সে মতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিয়োগে কোন ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *