জার্নাল ডেস্ক
27 July 2020
  • No Comments

    ঈশ্বরগঞ্জে হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন:ভাঙ্গনে ৬৭টি পরিবার

    মো: শামসুল আলম খান:

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগজ্ঞ উপজেলার মরিচার চর বটতলা বালু মহালে বিজ্ঞ হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে চলছে বালু উত্তোলন। এনিয়ে নদের ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানায়, অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গড়িয়েছে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনে। কিন্তু আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে অবৈধ বালু উত্তোলন-বিক্রির ঘটনায় বালু সংশ্লিষ্টদের সাথে স্থানীয় একটি পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন সরব না হলে যে কোন সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা বিদ্যমান রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বালু মহালের ১লাখ ১১হাজার ৩৭৫ ঘনফুট বালু বাজেয়াপ্ত দেখিয়ে গত ৯ জুলাই নিলাম করে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু নিলামে উল্লেখিত বালুর চেয়ে অতিরিক্ত বালু মজুদ
    থাকায় ইজাদার মহল সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১০লাখ ৫০হাজার টাকায় বালু নিলাম নিলেও সাকুল্য টাকা জমা না দেয়ায় জমাকৃত এক লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এ ঘটনার পর থেকে অবৈধ ইজারাদার ফের বালু বিক্রি শুরু করলে স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫টি বালু ভর্তি ট্রাক আটক করে বালু রেখে ট্রাক গুলো ছেড়ে দেন। অভিযোগকারী স্থানীয় রবিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে অবৈধ ইজারাদার ও তার লোকজন স্থানীয় প্রশাসনের মদদে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছে।
    বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বার বার অবহিত করা হলেও তিনি কর্নপাত
    করছেন না।

    এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, বালু মহাল নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে দুটি পক্ষ জড়িত। ফলে বালু উত্তোলন ও বিক্রি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট এবং পাল্টা রিট হয়েছে। বর্তমানে আমার জানামতে বালু মহালের
    কার্যক্রম বন্ধ আছে। এদিকে বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় ব্রক্ষ্মপুত্র নদের মরিচার চর বটতলা অংশে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে সরকারী হিসেবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৬৭টি পরিবার। ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে মরিচার চর ও উচাখিলা বাজারের সংযোগ সড়ক।
    ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙ্গন রোধে প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহনে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন। তিনি জানান, ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ ৬৭টি পরিবারের মধ্যে ৫১টি পরিবারে নগদ
    অর্থ ও ডেউটিন বিতরন করা হয়েছে। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আরো ২৫টি পরিবারে ডেউটিন বিতরন করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সেই সাথে দূর্গতদের মাঝে শুকনা খাবার ও চাল বিতরন করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন আরো জানান, এলাকার ভাঙ্গন রোধে নদের মূল অংশের কাছাকাছি স্থানে খননের জন্য ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন হবে বলে আশা করছি।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *