ময়মনসিংহে ছিনতাই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহ শহরে ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা চলছে । ময়মনসিং হেল্পলাইন নামের একটি সেবামুলক ফেসবুক গ্রুপে ছিনতাই নিয়ে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
প্রতিদিনই ময়মনসিংহের বিভাগীয় শহরের কোথাও না কোথাও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলেন তারা। ছিনতাইয়ের কারণে আতঙ্কে রয়েছে শহরের বাসিন্দারা।
সাধারণ মানুষ বাসার বাইরে গিয়ে যানবাহনে উঠতে ভয় ও আতঙ্কে থাকেন। সম্প্রতি পুলিশের ভুমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসী। শহরের অনেক সাধারণ মানুষকে ছিনতাইবাজের খপ্পরে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কাউকে ব্লেড দেখিয়ে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা তো বটেই, পন্য সামগ্রীও লুট করে নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য বলছে, অভিনব কৌশলে অব্যাহত ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ । ছিতাইয়ের কবলে পরে যানবাহনের যাত্রীগণ হারাচ্ছেন নগদ টাকা, মোবাইল সেট, ঘড়ি, স্বর্ণালংকারসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল। শহরের কাঁচিঝুলি,জিলা স্কুল মোড়, কলেজ রোড, পুরান ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড,টাউন হল মোড়, জেসি গুহ রোডের মেডিকেল গেইট থেকে বিদ্যুৎ অফিস পর্যন্ত স্থান, চরপাড়া মেডিকেল কলেজ গেইট হতে পলিটেকনিক মোড় পর্যন্ত স্থান, পাটগুদাম র্যা লির মোড়, কেওয়াটখারী বীজগুদাম, নতুন বাজার রেল গেইট, নওমহল বোচারপুল, ব্রাহ্মপল্লী, কিষ্টপুরসহ অনেক স্পটে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। নগরীর সচেতন মহল বলছেন, আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্টানগুলো উদাসীনতার কারনে এই সব ছিনতাই বাড়ছে।

রাসেল মিয়া নামে এক ব্যাক্তি ফেসবুকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ছিনতাইকারীতে আবার ভরে গেছে ময়মনসিংহ। আজ ১৮ জুলাই দুপুর ঠিক ২ ঘটিকায় একটি কম্পিউটার মনিটর কিনে দুর্গাপুরে ফিরছিলাম। গাঙ্গিনারপাড় ট্রাফিক মোড় থেকে ব্রীজের অটোতে ওঠি আমি একটু সামনেই আরেকজন ওঠেন। এর পর বারী প্লাজার সামনে থেকে ৩ জন অটোর ভিতরে বসতে চাইলে আমি সামাজিক দূরত্বের কথা বলি।
কিন্তু তারা আমার পাশের জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন বাসা কই? কি শপিং করছে ইত্যাদি।
আমি ব্যপারটা বুঝে আমার এক বড় ভাইকে কল করার জন্য ফোন বের করি। ইতোমধ্যে দস্যু দলের একজন আমার গোপন অঙ্গে একটি খোর ধরে রেখেছে, আমি কাউকে কল করলে তারা কাটাকাটি করবে। মনিটর, ব্যাগ এসব নিয়ে নিজেকে ডিফেন্স করাও তখন সম্ভব ছিলোনা। পাশের জনের কাছ থেকে ৪০/= আর আমার পনের শত টাকা থেকে বার শত টাকা নিয়ে গেল। উল্লেখ্য ছিনতাইকারী দলের নেতার ডান হাতটা ভাঙা, বাঁকা, আর অটো ড্রাইভারকেও আমার যথেষ্ট সন্দেহ হয়েছে, আমি অটো থামাতে বলছিলাম সে থামায়নি। তাছাড়া র্যকর্লীর মোড়ের সামনে বলা কওয়া নাই তাদেরকে নামিয়ে দিছে।

টি. এইচ .আল আমিন নামের এক ব্যাক্তি ফেসবুক লিখেন,,ময়মনসিংহ ব্রীজের কাছ থেকে কিছুদিন আগে আমার থেকে ১৭ শত টাকা নিয়ে গেছে !ধারণা করছি! বড় ভাই নামের কিছু নেতারা ওদের পরিচালক ।

সোহাগ তালুকদার লিখেন,সেম কাহিনী আমার সাথে ও হইছে ৬/৭ দিন আগে।

মেহদী হাসান জীবন লিখেন, এটা একটা বাজে শহর এই শহরটা আমার কাছে এক দম ভালো লাগে না আমি যেদিন প্রথম গিয়েছিলাম সেদিনি আমার কাছ তেকে টাকা নিয়ে গেছিল তাই আমি এই শহরে আসি না বা আসতে চাই না।

এ্যডভোকেট রফিকুল ইসলাম তারা লিখেন, কিছু দিন যাবৎ দেখা যাচ্ছে ময়মনসিংহ শহর ছিনতাইকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে।দিনেদুপুরে সবই হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের এক বাসিন্দা বলছেন, এ এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। সার্বিক নিরাপত্তাহীনতা এই ধরনের অপরাধপ্রবণতা বাড়াতে বাধ্য।শহরে মাদকাসক্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গেছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে মাদকাসক্তরা চুরি ও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে। শহর ও আশপাশ এলাকায় মাদক কেনাবেচা হচ্ছে।
এই শহরে ইয়াবাসেবীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সন্ধ্যার পর শহরের প্রায় সব এলাকায় মাদকসেবীর পদচারণা চোখে পড়ে
কোতয়ালী থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার জানান, শহরে ছিনতায়ের বড় ধরনের কোন ঘটনা নেই। কিছু ছোট ঘটনার মধ্য মোবাইল.ম্যানিব্যগ চুরির ঘটনা থাকতে পারে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর হতে এখন সবচেয়ে বেশি এই শহরে মানুষ শান্তিতে রয়েছে। পুলিশের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে আইন শৃংঙ্খলার উপর।
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মোঃ শাহ কামাল আকন্দ বলেন, আমরা প্রতিদিন অপরাধীদের গ্রেফতার করছি, আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। সাধারণ মানুষের আতঙ্কের কোন কারন নেই।