মাদারগঞ্জে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাধ ভেঙ্গে ১০ গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশিত: ৪:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২০

প্রতিনিধি,জামালপুর:

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের নাদাগাড়ী গ্রামের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের পানির চাপে ভেঙে গেছে বাঁধটি।
শুক্রবার সকালে দিকে বাধটি ভেঙ্গে যায়। এর ফলে নতুন করে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ করে বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন শত শত মানুষ। কোন কিছু বুঝে উাঠার আগেই ১৫টি কাঁচাপাকা বাড়ি পানির তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। অপর দিকে দেখা দিয়েছে ব্যাপক হারে ভাঙ্গন। ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থানীয়রা শতচেষ্টা করেও তাদের থাকার বসত ভিটার শেষটা রক্ষা করতে পারছেন না। তবে যমুনার পানি আজ দুপুরে বিপদ সীমার ১০৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান পানিমাপক আব্দুল মান্নান।
স্থানীয়রা জানান, তৃতীয় দফা বন্যায় যমুনা নদীর পানি গতরাতে হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার সকালে বিকট শব্দে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাধের ৫০ মিটার ধসে যায়। মহুর্তের মধ্যেই প্রবল পানির ¯্রােতে ঐ এলাকার ৫০টিরও বেশি কাঁচা-পাকা বাড়িঘর ভেঙ্গে নিয়ে যায় রাক্ষুসি যমুনা। এ দৃশ্য তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না অসহায় মানুষদের। আশ পাশের প্রায় ১০ থেকে ১৫টি গ্রাম আবারও নতুন করে প্লাবিত হয়ে পড়ে। এতে করে পানি বন্ধি হয়ে পড়েন প্রায় বিশ হাজার মানুষ।
ফকির আলী বলেন, শুক্রবার ভোর ভেলা ঘুম থেকেই একটা বিকট শব্দ পাই। কোন কিছু বুঝে উাঠার আগেই পানি ডুকে বাড়ি-ঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আমরা কেউ ঘর থেকে একটি সুতাও বের করে নিতে পারি নাই। আমাদের কষ্টের কথা কি আর বলবো। পানিতেই জীবন যাপন করতে হবে মনে হয়।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি খবর পেয়ে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হককে সাথে নিয়ে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করি। স্থানীয়রা শতচেষ্টা করেও তাদের বাড়ি-ঘর ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারছে না। তবে তাদের এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করার ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে চাল,তৈল,লবন,চিনিসহ বিভিন্ন রকমের ১৬ কেজি ওজনের ত্রান সামগ্রী বিতরণ করতে যাচ্ছি। এছাড়া ওয়াল্ডভিশন এনজিও প্রতি পরিবারকে ৩হাজার টাকা করে সহায়তার দেওয়ার অশ্বাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।