জার্নাল ডেস্ক
23 July 2020
  • No Comments

    জামালপুরে তৃতীয় দফা বন্যায় ত্রাণ ও গোখাদ্যের তীব্র সংকট

    মিঠু আহমেদ,জামালপুর॥

    জামালপুরে তৃতীয় দফা বন্যায় যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত বন্যায় জেলার গত প্রায় ২৫দিন যাবত প্রায় দশ লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৩জুলাই) বিকাল ৩টা নাগাদ ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে জামালপুর ফেরীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আবু সাঈদ ও পানি মাপক গেজ পাঠক,আব্দুল মান্নান।
    তৃতীয় দফা বন্যায় জেলার ৭টি উপজেলার ৬৭৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ। টানা প্রায় ২৫দিন পানি বন্দি নিন্ম আয়ের মানুষুষ গুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। একদিকে প্রাণঘাতি করোনা থাবা, অপর দিকে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা, এ যেন মরার উপর খাড়া গা। অন্যান্য বছরে বন্যা দেখা দিলে অসহায় মানুষের পাশের্^ দাঁড়িয়েছেন সমাজের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনসহ অর্থবৃত্তবান মানুষ। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ করোনার প্রভাবে এবার বেসরকারী ত্রান তৎপরতার দৃশ্য তেমন চোখে পড়েনি। করোনায় প্রভাবে এ বৎসর অনেকের আয় কমেছে,আবার অনেক বৃত্তশালীরা করোনার ভয়ে ত্রান সহায়তা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন। এদিকে তৃতীয়’দফায় ২৫ দিনের বন্যায় পানিবন্দি অসহায় মানুষদেও প্রয়োজনীয় ত্রাণ, শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও গোখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু ডিলেডালা ভাবে কিছু কিছু যায়গায় সরকারি ত্রান বিতরণ চলছে। সেটা খুবই অপতুল্য, বানভাসী মানুষের ভাগ্যে জুটছে দু’এক বেলার খাবার।
    দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর,বকশিগঞ্জ, সরিষশাবাড়ি উপজেলার বেশির ভাগ বানবাসীদের অভিযোগ তারা এখনও ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না। তারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন ত্রাণ বিতরণ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। অপর দিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক ও জেলার ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা বলছে,বন্যার্তদের মাঝে এ পর্যন্ত ৪১০ মেট্রিক টন চাল,১৯ লাখ টাকা,৪ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার,দুই লক্ষ টাকার শিশু খাদ্য ও দুই লক্ষ টাকার গো-খাদ্য এবং ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে আরো তিন হাজার ৪০৮ মেট্রিক টন চাল বিতরণ কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ২০০ মেঃটন চাল মজুদ রয়েছে বলে জানান।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *