নান্দাইলে সড়ক নয় যেন খাল,সংস্কারের ৬মাস পর যেই সেই

প্রকাশিত: ৫:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০

মজিবুর রহমান ফয়সাল,নান্দাইল:

নান্দাইল উপজেলার মুশুলী-কালিগঞ্জ সড়কের পিচ, ইট-পাথর উঠে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। খানাখন্দের কারণে সড়কে চলাচলকারীরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যানবাহন উল্টে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক পথচারী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটার পরও সড়কটি সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই।
জানা যায়, সর্ব শেষ দুই বছর আগে খানাখন্দে ভরা এই সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিল। এ কাজটি বাস্তবায়ন করেছিল প্রভাবশালী একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ৬ মাস যেতে না যেতেই এসব পিচ কার্পেটিং উঠে গিয়ে আবারও সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সরেজমিনে সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের মুশুলী চৌরাস্তা থেকে পূর্ব দিকে সড়কটি কালিগঞ্জ হয়ে পাশের তাড়াইল উপজেলায় গিয়ে মিশেছে। সড়কের মুশুলী হতে কালিগঞ্জ পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত আর খানাখন্দে ভরা। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ সড়কে বিভিন্ন ধরণের শত শত যানবাহন চলাচল করছে।
ইজিবাইক চালক শরিফ মিয়া ও জুবায়ের আলম জানান, এই সড়ক দিয়ে মুশুলী থেকে কালিগঞ্জ যেতে অনেক বার যাত্রীদের নামিয়ে গর্ত পার হতে হয়। গর্তগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে গাড়ি চালানো কষ্ট হয়ে পড়ে। ভাঙা রাস্তার কারণেই প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা। গাড়ি বিকল হয়ে যাচ্ছে। ঝাঁকুনির ভয়ে যাত্রীরা নেমে যেতে চান। এছাড়া ভাঙা রাস্তায় ধীর গতির কারণে সময়ও অপচয় হয়। মুশুলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকগণ কালিগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংক থেকে বেতন উত্তোলন করেন। ব্যাংকে যেতে একমাত্র রাস্তা মুশুলী-কালিগঞ্জ সড়কটি বেহাল অবস্থা। শিক্ষক ছাড়াও শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। মুশুলী চৌরাস্তা এলাকার প্রায় ২০ জন বাসিন্দার সাথে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি খানাখন্দ অবস্থায় পড়ে থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল সহ বিভিন্ন ব্যাংক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয় এ সড়ক দিয়েই। কাদা পানির মধ্য দিয়েই পথচারী, শিক্ষার্থীরা এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। প্রায় সময় মুশুলী চৌরাস্তা অংশে গর্তে পরে গাড়ী আটকে থাকে।
এই বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী আতিকুর রহমান তালুকদার জানান, তিনি এ উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছেন। এখনো তেমন কিছুই জানা হয়নি। মুশুলী-কালিগঞ্জ সড়কের দুরাবস্থার কথা স্বীকার করে নান্দাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রশিদুল হাসান বলেন, মুশুলী-কালিগঞ্জ সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বাজেট পাশ হলেই রাস্তাটি সংস্কার সহ দুই পাশ বড় করা হবে।