ময়মনসিংহ সদর গুদাম কর্মকর্তা ষড়যন্ত্রের জালে!

প্রকাশিত: ২:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় একটি সুবিধা বঞ্চিত মহল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। ফলে ওই কর্মকর্তাকে বিপদে ফেলতে নানান ভাবে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন তারা । উদেশ্যমুলকভাবে ব্যাক্তি ইমেজ চরিতার্থ করার জন্য উপন্যাসের মতো গল্প লিখে তাকে হেয় করা হচ্ছে। খবরের কোন সুত্র উল্লেখ না থাকায় বিশিষ্টজনরা এ ধরনের চমকপদ সংবাদ পরিবেশন করাকে উদেশ্যমুলক বলে মত প্রকাশ করেন। এ নিয়ে খাদ্য বিভাগের ভেতরে-বাইরে মিশ্রপ্রক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন আরিফ রব্বানী। দ্বায়িত্ব গ্রহনের পর সফল ভাবে ৩টি সংগ্রহ অভিযান সম্পন্ন করায় বর্তমানে চতুর্থ ধাপে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলমান আছে।

সূত্র মতে, চলমান সংগ্রহ অভিযানে একটি মহল অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য রচনা করে হয়রানী করছেন। ওই কর্মকর্তার ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পরিবার জড়িয়ে করছেন অপপ্রচার। এনিয়ে ক্ষোভ দাঁনা বাধঁছেন সংশ্লিষ্ট মহলে।

জানা যায়, আরিফ রব্বানী ২০১৪ সালের ৭মে চাকরীতে যোগদান করে কর্মজীবন শুরু করেন খুলনায়। সেখানে সুনামের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করার এক পর্যায়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় দ্বায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই সময়ে সেখানে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দ্বায়িত্ব পালন করেন দিলুয়ার হোসেন। কিন্তু সুবিধা বঞ্চিত মহলটি ওই সময়ের মিথ্যা তথ্য তুলে ধরে প্রচার করছে যে ’নীতিমালা ভঙ্গ করে আরিফ রব্বানী ফুলবাড়ীয়ায় যোগদান করেছেন এবং কালো বাজারে চাল বিক্রির অভিযোগে জনতার হাতে আটক হয়েছেন। এমনকি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সাথে আরিফ রব্বানী দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ছিলেন বলেও প্রচার করছেন। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আরিফ রব্বানী খাদ্য বিভাগে বদলী নীতিমালা প্রনয়নের আগেই সরকারী আদেশে ফুলবাড়ীয়ায় যোগাদন করেন। ওই সময়ে সেখানে জনতার হাতে আটকের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সাবেক খাদ্য নিয়ন্ত্রক দিলুয়ার হোসেন জানান, ফুলবাড়ীয়ার কর্মজীবনে কখনো আরিফ রব্বানীর সাথে আমার মতবিরোধ বা দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটেনি। স্বচ্ছতার সাথেই আমরা দ্বায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি, কৃষক হয়রানীর কোন তথ্যই সঠিক নয়।

সূত্র জানায়, ওই মহলটি আরো প্রচার করছে যে “আরিফ রব্বানী কৃষক তালিকা প্রনয়ণে অনিয়ম করে লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ প্রকৃত পক্ষে নিয়ম অনুযায়ী কৃষক তালিকা প্রনয়ণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা এবং খাদ্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে। এতে গুদাম কর্মকর্তার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
বিগত আমন মৌসুমে চাল-ধান সংগ্রহে টনপ্রতি ২ থেকে ৪ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট মিলাররা।

সদর উপজেলার আকাশী অটো রাইস মিলের মালিক আনিছুর রহমান বলেন, এখন ধান-চাল সরবরাহে কোন ধরনের কমিশন দিতে হয় না। আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ এখন খাদ্য কর্মকর্তারা।

এ. রহমান অটো রাইস মিলের মালিক ইকবাল হোসেন ও ঝমঝম অটো রাইস মিলের মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, গুদাম কর্মকর্তাদের কাছে মিলারদের হয়রনানী হবার কোন ঘটনা নেই। এখন তারা ধান-চালের মান নিয়ে ব্যাপক তৎপর। অন্যায় সুবিধা তারা কখনো আবদার করে না। কমিশন আদায় বা হয়রানীর অভিযোগ মিথ্যা।

সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমানুর রহমান পলাশ বলেন, গত ৩/৪ মাস যাবত আমি এখানে যোগদান করেছি। এ সময়ের মধ্যে গুদাম কর্মকর্তার কোন অনিয়ম আমার চোখে পড়েনি।

এসব বিষয়ে ভুক্তভোগী সদর উপজেলা গুদাম কর্মকর্তা আরিফ রব্বানী বলেন, একটি মহল অনৈতিক সুবিধা বঞ্চিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে অপপ্রচার করছে। যা মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি আমার কর্মে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিতকরনে বদ্ধপরিকর।