জামালপুরে সর্বত্রই বন্যার পানি,দুর্গতদের কষ্টের শেষ নাই

প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

মিঠু আহমেদ,জামালপুর॥

বাবারে ‘বানে বাইসে গেলাম। বান হিড়িক দিয়ে হাঁস-চড়ইসহ সবই ভাসায় নিল। ঘরও ওহন ভাঙা গেছে। আমার মত কষ্টে কেউ নাই। কয়দিন ধইরা হামরা বুইড়া-বুড়ি কাঁচা কাঠাল সিদ্ধ ও ভুট্টার গুড়া খাইয়া বাইচা আছি। খিদা লাগলে ওহন কাঁচা কাঠাল সিদ্ধ ও ভুট্টার গুড়া ছাড়া ঘরেত কিছুই নাই। কেউ আমগরে দেখতেও আহেনাই ’কান্না জড়িত কন্ঠে বলছিলেন জামালপুরের ইসলাপুর উপজেলার পুর্বভামনা গ্রামের বৃদ্ধা রমিছা বেগম (৫৯)।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকবার যমুনার ভাঙ্গনে সবকিছু হাড়িয়ে ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের পুর্ব ভামনা গ্রামে আশ্রয়নেন বৃদ্ধা রমিছা বেগম (৫৯)। তার চার মেয়ে ও এক ছেলে। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন অনেক কষ্টে সখিনা, ফিরোজা, শিরিনা। ছোট মেয়ে শরিফা এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী তার বিয়ে হয়েছে কিছু দিন আগে। যৌতুকের টাকার অভাবে তাকে শ^শুর বাড়ি পাঠাতে পারছে না। স্বামী স্বপন মিয়া (৬৫) মানুষের বাড়িতে দিন মুজুরের কাজ করতো। কিন্তু প্রাণঘাতি করোনা ও বন্যার কারণে কোন কাজও পাচ্ছে না। ছেলে মোন্তাজ শেখ গার্মেন্টেসে চাকুরী করতো করোনার জন্যে সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। পরবর্তীতে ছোট খাট একটা ব্যবসা করছিল সেটিও করোনার কারণে বন্ধ। তাদের চলার মতো কোন রাস্তানেই। বাড়ির চারপাশে গলা পর্যন্ত পানি। কলার ভেলায় বসে কাঁচা কাঠাল সিদ্ধ করে খাওয়ার জন্যে কাটছিলেন বৃদ্ধা রমিছা বেগম (৫৯)। তার পাশেই পানিতে দাড়িয়ে ছিলেন তার বৃদ্ধ স্বামী স্বপন মিয়া। তিনি বয়সের ভাড়ে অনেকটাই নুয়ে পড়েছেন। আগের মতো শক্তি ও সার্মথ তার নেই।

বৃদ্ধা রমিছা বেগম বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ওপর দিইয়া বান যাইতেছে। আমাগর মরণের পথ হয়ছে। আমরা বুইড়া-বুড়ি বানের পানির সঙ্গে যুদ্ধ করতেছি। কেউ খবর পর্যন্ত লইতে আহেনাই। এক ছটাক ত্রাণও পায়নি। আমাগর চলবে কেমনে। রাস্তাঘাট-দোকানপাট, ঘরবাড়ী, খেত খামারসহ সব ভাইসে গেছে। এমন কষ্ট আগে কহনো হয়নি। হিড়হিড়ি পানি বাড়ছে-আমরা বুইড়া-বুড়ি কোথায় যামু। আমগর সাহায্য না দিলে মরতে ওইবো।’
হঠাৎ করে আগাম বন্যা আসায় কোন প্রকার প্রস্তুতি না থাকায় আমরা খুবই কষ্টে আছি। গত কয়েকদিন যাবত আমরা শুধু কাঁচা কাঠাল ও ভুট্টার গুড়া খেয়ে দিনাতিপাত করছি। পানি বন্ধি হলেও ওয়ার্ডের মেম্বার ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও তাদের কোন খোঁজ নেয়নি।

চিনাডুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, হঠাৎ করে প্রস্তুতিহীন বন্যা আসায় সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে। তবে সরকারী ত্রাণ আসা মাত্রই সবার মাঝে পৌছে দেওয়া হবে। সামান্য কিছু ত্রাণ পেয়েছিলাম সেটি বিতরণ করা হয়েছে। তবে সুকনা খাবার ও ত্রাণের ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে চিনাডুলি ইউনিয়নটি যমুনা নদীর তীর ঘেষা এই ইউনিয়নটি।

ইসলামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু বলেন, শুকনা খাবার ও গোখাদ্য ৫ কেজি করে ৪৫০ জন বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ১ লাখ ৭১ হাজার নগদ টাকা, ১শ ২১ মেঃ টন চাল বিতরন করা হচ্ছে। আরও ১ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার তাদেও মাঝে বিতরণ করা হবে। সরকারের ব্যাপক পরিমান চাল মজুত রয়েছে। যদি কেউ কষ্টে থাকে বলেন, আমরা এখনি তার কাছে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিবো।