সাফল্যের দেড় বছরে গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ

প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০

মো: আমান উল্লাহ আকন্দ জাহাঙ্গীর:

২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পান ময়মনসিংহ-২ ফুলপুর-তারাকান্দা আসনের সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদ। সেই থেকে নিজস্ব স্বকীয়তায় দেশ ও মানুষের কল্যানে নিজেকে নিবেদিত রেখে মন্ত্রনালয়ের প্রতিটি কর্মকান্ডে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। ফলে তাঁর সফল কর্মদক্ষতায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টিতে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারী মন্ত্রীসভার রদবদলে গৃহায়ণ ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পান তারুণ্য নির্ভর নেতৃত্বের যোগ্য ব্যক্তিত্ব শরীফ আহমেদ এমপি। মঙ্গলবার (৭জুলাই) তাঁর প্রতিমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পালনে সাফল্যময় কর্মকান্ডের দেড় বছর পূর্ন হল। কিন্তু গৃহায়ণ ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্ব গ্রহনের পরপরই করোনার দূর্যোগে লন্ডভন্ড হয়ে যায় দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি। এতেও হাল ছাড়েননি তিনি। করোনার দূর্যোগে মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতিদিন ময়মনসিংহের মাঠে থেকে কাজ করেছেন কর্মহীন অসহায় দূর্গত মানুষের কল্যাণে। সেই সাথে মন্ত্রনালয়ের জবাবদিহিতামূলক কর্মকান্ডে অভূতপূর্ব সাফল্যের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজে দেয়াল নির্মান ইস্যুতে উদ্ভুত পরিস্থিতি খুব সহজেই সামলে নিয়ে কর্মদক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আগে ক্যন্সার-কিডনীসহ ৫টি জটিল রোগীদের জন্য সরকারী সহায়তার অর্থ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর থেকে সীমিত পর্যায়ে বিতরণ করা হত। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব গ্রহনের পর শরীফ আহমেদ এমপি এ সহায়তা প্রকল্পের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে শতকরা ৭০ভাগ অর্থ মন্ত্রনালয় হতে জেলা প্রশাসক ও সমাজসেবা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এবং অধিদপ্তর থেকে শতকরা ৩০ভাগ অর্থ সারা দেশে সুষম বন্টন নিশ্চিতকরণে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। সেই সাথে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মকান্ডের আওতায় বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধি ও উপকারভোগীর তালিকা বৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রাখেন তিনি। যা তাঁর সাফল্যময় কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য।

প্রতিমন্ত্রীর ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা সারোয়ার জাহান সৌরভ জানান, করোনার দূর্যোগে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এম.পি’র ব্যাক্তিগত অর্থায়নে ৪০ হাজার কর্মহীন অসহায় পরিবারে খাদ্য সামগ্রী, ২০ হাজার শাড়ী-লুঙ্গি ও নগদ অর্থ বিতরন করে অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

সূত্র জানায়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এম.পি ১৯৭০ সালের ২৫শে জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ভাষাসৈনিক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা জননেতা প্রয়াত শামছুল হক পাঁচ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং একবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রয়াত শামছুল হক ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের খুব কাছের রাজনৈতিক সহচর হিসাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের তথা তৎকালীন বৃহত্তর ময়মনসিংহের একজন দাপুটে জননেতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। তাঁর মাতা একজন রতœগর্ভা। কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তিনি তার তিন পুত্র ও তিন কণ্যা সন্তানকে সুযোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ছয় ভাই বোনের মধ্যে শরীফ আহ্মেদ পঞ্চম।
পারিবারিক সূত্র জানায়, স্কুলজীবনে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জনসহ কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করে ঐতিহ্যবাহী আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে পিতা যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আর্দশে রাজনীতিতে হাল ধরার জন্য নিজ এলাকার ফুলপুর ডিগ্রী কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। পরে তিনি আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন। শিক্ষাজীবনে ক্রীড়াঙ্গনে ছিল তার অবাধ বিচরণ। ফুটবল ও ক্রিকেটে অসাধারণ কৃতিত্ব ছিল তাঁর। বন্ধু মহলে তিনি প্রাণবন্ত উচ্ছল তারুন্যের প্রতীক।

দলীয় সূত্র জানায়, তৃণমূল থেকে উঠে আসা শরীফ আহ্মেদ ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম সদস্য।
জানা যায়, তৃণমূলের বিপুল কর্মীবাহিনী তার রাজনৈতিক জীবনের প্রধান চালিকাশক্তি। রাজনৈতিক জীবনে ২০১৩ সালে জনগণ তাঁকে তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত করেন এবং ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দশম জাতীয় সংসদের ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহ্মেদ বিবাহিত। তাঁর সহধর্মিনী মিসেস শেফালী বেগম বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি দুই সন্তানের গর্বিত পিতা। প্রথম সন্তান ওয়াসেক আহমেদ ও ২য় সন্তান তাসফিয়া আহমেদ।