নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও ভাইকে বাঁচাতে সামনে দাঁড়িয়ে ছিল

প্রকাশিত: ১০:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০

জিবুর রহমান ফয়সাল ॥ জমি বণ্টনসংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী দূর থেকে বল্লম ছুড়ে মারে ভাইয়ের দিকে। সেই সময় নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও ভাইকে বাঁচাতে বল্লমের সামনে দাঁড়িয়েছিল ইতি আক্তার (১৭)। এতে বল্লম বেঁধে যায় তার গলায়। তবো দমে যায়নি সে। গলায় বেঁধে যাওয়া বল্লম নিয়েই ভাইকে বাঁচাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। ভাইকে বাচাঁতে পারলেও নিজে মৃত্যুর কোলে ডলে পড়ে। শনিবার এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের বনাটি বাজুপাড়া গ্রামে।

নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, ইতির বাবার নাম সাহেদ ভূঁইয়া। সাত ভাই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। গত বছর স্থানীয় কাশিনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। পাড়ায় কোন ঝগড়া হলে সে দুই পক্ষকে বুঝিয়ে শান্ত করতো। এক কথায় অন্যায়ের প্রতিবাদী এক সাহসী তরুণী ছিল। রবিবার দুপুরে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ইতি আক্তারের বাবা সাহেদ আলী ঘরের সামনে পড়ে চিৎকার করে কাঁদছিলেন। অন্যদিকে মা আর অন্য বোনেরা আহাজারি করছিলেন। বাবা পাগলের মতো বলছেন, ‘রিপন আমার ছেড়িডারে বল্লম দিয়া ঘা দিয়া মারছে। হেরেও একটা ঘা দেইন।’ এসময় ইতির সহপাঠী জোবায়ের ও ইমরান জানায়, বিদ্যালয়ে পড়ার সময় সে খুব শান্ত, ন¤্র ও ভ্রদ্র ছিল। কিন্তু কোন অন্যায় হলে প্রতিবাদ করতো। আমাদের পাড়ায় এমন একটা মেয়ে আর নেই। প্রতিবেশি জালাল উদ্দিন এবং কাইয়ুম মিয়া জানান, মেয়েটা আশপাশের বাড়িতে ঝগড়া হলে বুঝিয়ে সবাইকে শান্ত করতো। ভাইকে বাঁচাতে এসে নিজেই চির দিনের মত শান্ত হয়ে গেলো। এমন একটা মেয়ে আমাদের পাড়ায় আর হবে না।

জানা গেছে, ইতির বাবা সাহেদ আলী ও লাল মিয়া দুই ভাই। পৈতৃক জমি বণ্টন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে গ্রামে একাধিক সালিস হয়েছে। বারবার সালিস আয়োজন করায় লাল মিয়ার ছেলেরা সাহেদ আলীর ছেলেদের প্রতি প্রচ- ক্ষুব্ধ হন। শনিবার সকালে সাহেদ আলীর ছেলেরা নিজেদের অন্য জমিতে বীজতলা তৈরি করতে গেলে লাল মিয়ার ছেলেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাহেদ আলীর ছেলেদের চারদিকে ঘেরাও দিয়ে মারধর শুরু করে। এ দৃশ্য দেখতে পেয়ে ইতি আক্তার ভাই শহিদকে বাঁচাতে দৌড়ে সেখানে আসে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ রিপন একটি বল্লম ছুড়ে মারে ইতির ভাইয়েল দিকে। তখন ভাইকে বাঁচাতে ছুড়ে দেওয়া বল্লমের সামনে দাঁড়ায়। বল্লমটি গেঁথে যায় তার গলায়। কিছুক্ষণ পর সে মাটিতে পড়ে মারা যায়।

নান্দাইল থানার ওসি মনসুর আহম্মেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গ্রামে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ও লাল মিয়ার স্ত্রী জামেনা, কন্যা নাজমা ও ভাই চান মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। হত্যাকা-ের ঘটনায় শনিবারই মামলা দায়ের হয়েছে।