নেত্রকোনায় বয়স্ক ভাতার টাকা মেম্বারের অত্নসাৎতের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:০৮ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

মো.কামরুজ্জামান, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: নেত্রকোনায় বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাৎ অভিেযাগ উঠেছে ইউপি মেম্বার শাহিন আহাম্মেদর বিরুদ্ধে ।নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের আদম আলী মেয়ে সালেহা আক্তার বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ভয়ে এতোদিন গোপন রেখেছেন ।

জানা যায়, শাহিন আহাম্মেদ খান সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি ৮ নং ওয়ার্ডের তেতুলিয়া গ্রামের সালেহা আক্তার নামে এক মহিলাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেন। কার্ডধারী সালেহা আক্তার সোনালী ব্যাংক মদনপুর বাজার শাখা থেকে ৬ হাজার টাকা ভাতা উত্তোলন করেন। ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা নিয়ে বের হওয়ার পর জোর করে ইউপি সদস্য শাহিন আহাম্মেদ খান তার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নিয়ে নেন।

এ বিষয়ে কার্ডধারী সালেহা শাহিন মেম্বারের ভয়ে সরাসরি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
তেতুলিয়া গ্রামের কার্ডধারী সালেহা আক্তার জানান, ‘বয়স্ক ভাতার ৬ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা নিয়ে বের হওয়ার পর মেম্বার শাহিন বয়স্ক ভাতার কার্ড করতে নাকি টাকা খরচ হয়েছে। সমাজসেবা অফিসে নাকি টাকা দিতে হয়েছে এটা নাকি সে স্পেশাল কাট করে দিয়েছে এই কথা বলে আমার কাছে টাকা চায় আমি প্রথমে তাকে এক হাজার টাকা দেই এই টাকায় কাজ হবে না বলে আমার কাছ থেকে জোর করে মেম্বার শাহিন ৩ হাজার টাকা নিয়ে নেয়।

এমনকি এই টাকা নেওয়ার বিষয়টা কাউকে না জানানোর জন্য সালেহা আক্তারকে ভয়-ভীতি দেখায় মেম্বার শাহিন। মেম্বার এইরকম আরও মানুষের কাছ থেকে বয়স্ক ভাতা সহ বিভিন্ন কার্ড করে দিয়ে টাকা নিয়েছে বলেও জানা যায়।

ইউপি মেম্বার শাহিনের সাথে কথা বললে তার বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সাংবাদিকদের সাথে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি কারও কাছ থেকে কোনও টাকা নেইনি। আমার প্রতিপক্ষ আমার নামে এই মিথ্যা বানোয়াট কথা বলছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় বয়স্ক ভাতার কার্ড করতে মাত্র ১০ টাকা খরচা হয় সেটাও তার একাউন্টে থেকে যাবে।
নেত্রকোনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে আমি এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।