মহামারীতে জাপানে রেকর্ড কমেছে আত্মহত্যা

প্রকাশিত: ১১:৪৯ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২০

জার্নাল ডেস্ক:
জাপানে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এপ্রিলে আত্মহত্যা কমেছে ২০ শতাংশ। পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রথম এতো কম আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলো দেশটিতে। যদিও বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে মানসিক চাপ বাড়ছে, সেই সঙ্গে আত্মহত্যা প্রতিরোধের হেল্পলাইনগুলোও হয় বন্ধ নয়তো সীমিত আকারে পরিচালনা করতে হচ্ছে।

এমন প্রতিকূল পরিবেশেও আত্মহত্যা না বেড়ে বরং রেকর্ড হ্রাসের পেছনের রহস্য কী? মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারীর কারণে মানুষ বেশি বেশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, খুব কম মানুষই কাজে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে শিক্ষাবর্ষ এবার দেরিতে শুরু করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এসব কিছু মিলিয়ে মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গত এপ্রিলে জাপানে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। ২০১৯ সালের এপ্রিলের তুলনায় এ সংখ্যা ৩৫৯ কম।

আত্মহত্যা জাপানে অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ২০০৩ সালে এই প্রবণতা শীর্ষে ওঠে। ওই বছর দেশটিতে ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে। এরপর থেকে সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে অবশ্য সংখ্যাটি কমতে শুরু করেছে। তারপরও গত বছর ২০ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছে। আর গত মাসেই সর্বাধিক কমে গেছে। যদিও মহামারীর এ কালে হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

এদিকে এপ্রিলের মাঝামাঝিতে জাপানে করোনাভাইরাস সংক্রমণও চূড়ায় পৌঁছে যায়। ওই সময় দৈনিক পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামলাতে সরকার ১৬ এপ্রিল জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। অবশ্য করোনাকবলিত অন্যান্য দেশের তুলনায় জাপানে বিধিনিষেধ বেশ শিথিলই বলা চলে।

জাপানের আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংগঠনগুলো বলছে, সরকারের ঘরে থাকার নির্দেশনা আত্মহত্যা কমাতে দারুণ ভূমিকা রেখেছে। মাসভিত্তিক হিসাবে ৪০ শতাংশ কমে যাওয়ার পেছনে বড় কারণ কর্মস্থল একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা কর্মঘণ্টা কমে যাওয়া। এতে আত্মহত্যাপ্রবণ লোকদের উদ্বেগ অনেকখানি কমে গেছে।

জাপানে ইদানীংকালে আত্মহত্যা কমতে শুরু করলেও শিশুদের মধ্যে এ প্রবণতা ভয়ঙ্করভাবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ে বুলিংয়ের শিকার হওয়া বা অন্যান্য কারণে শিশুরা আত্মহত্যা করছে।

জাপানে শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় ১ এপ্রিল থেকে। এই সময়টাতে শিশু ও অভিভাবক উভয়ের জন্য ভীষণ মানসিক চাপ যায়। কিন্তু মহামারীর কারণে এবার শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। এটিও আত্মহত্যা কমাতে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জাপানে আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর সমিতির সাবেক টেলিফোন কাউন্সেলিং প্রধান ইউকিও সাইতো বলেন, স্কুল কিছু শিশুর জন্য খুব মানসিক চাপের জায়গা। কিন্তু গত এপ্রিলে সেই চাপ ছিল না। বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকার কারণে শিশুরা নিজেদের খুব নিরাপদ বোধ করছে।

আর বড়দের ব্যাপারে সাইতো বলেন, জাতীয় দুর্যোগ ও সঙ্কটকালে মানুষ কিন্তু আত্মহত্যার কথা ভাবে না। প্রমাণ হিসেবে তিনি ২০১১ সালের বড় ভূমিকম্প, সুনামি এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার সময় আত্মহত্যা কম হওয়ার তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করে এ মন্তব্য করেন তিনি।

যাইহোক, অর্থনৈতিক ও কাজের চাপ আত্মহত্যার একটি বড় কারণ। ১৯৯৭ সালের পর এশিয়ার অর্থনীতিতে বড় সঙ্কটের পর জাপানে আত্মহত্যা রেকর্ড ৩৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। করোনা মহামারীর পর অর্থনীতিতে যে বড় ধাক্কা আসবে তখন সেই বিভীষিকা ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জাপানের আত্মহত্যা প্রতিরোধ সমিতির প্রধান সাইতো।