দেশে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার বিস্তার ঘটেছে। এর মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪তম। প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অবস্থান ভালো হলেও পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতিশীল। ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে বলেই স্পষ্টত প্রতীয়মান হচ্ছে।

গতকাল সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই কার্যকর পন্থা। এমন সংকটে আমাদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। অথচ আমরা লক্ষ করছি প্রধানমন্ত্রী সাধারণ ছুটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিথিল করার পর বাণিজ্যকেন্দ্র, ফেরিঘাট, তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য কারখানা এবং সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব ও শারীরিক দূরত্ব কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান উপেক্ষিত হচ্ছে।

সবাইকে সতর্ক করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, সামান্য উপেক্ষা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই এখন থেকে সতর্ক থাকার জন্য আমি আবারো সবাইকে অনুরোধ করছি। করোনার সঙ্গে বসবাসের অভ্যাস রপ্ত করতে হবে আমাদের সবাইকে।

করোনাভাইরাস থেকে প্রতিকারে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত ও জনগণকে সচেতন থাকতে এবং সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি চিকিৎসাসহ সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে মনিটর করছেন। আমরাও আমাদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সক্ষমতা অর্জন করছি।

মার্কেটে না গিয়ে অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, শপিংমলে যারা সরাসরি কেনাকাটা করছেন সেখানে সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি রয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় অনেকে অনলাইনে শপিং করছেন। অনলাইনে কেনাকাটার বিষয়টি আজকাল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অত্যাবশ্যকীয় না হলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে অনলাইনে কেনাকাটা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

সাধারণ রোগীদের সেবার জন্য বেসরকারি ক্লিনিক ও চেম্বার খোলা রাখার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা, বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা পরিস্থিতির কারণে সীমিত হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ তথা রোগীরা অন্যান্য রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকেই বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে পথিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। সম্প্রতি একজন অতিরিক্ত সচিবসহ আরো কয়েকটি ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। এজন্য আমি স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে প্রতিদিন কিছু সময় প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার জন্য চিকিৎসকদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।