জার্নাল ডেস্ক
13 May 2020
  • No Comments

    নান্দাইলে ‘লাম্পি স্কিন’ ভাইরাসে আক্রান্ত কয়েক হাজার গরু

    মজিবুর রহমান ফয়সাল, নান্দাইল ॥ উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ নামে এক ধরণের ভাইরাসে কয়েক হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু গরু মারাও গেছে। মাঠ পর্যায়ে কোনো চিকিৎসক না যাওয়ায় রোগটি এখন মহামারি আকার ধারন করেছে। এ অবস্থায় কোনো উপায় না দেখে অনেক কৃষক কবিরাজের তাবিজ, পানি পড়া ও ঝাড়ফুঁক দিয়েই চিকিৎসা করাচ্ছেন।
    উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে জানা গেছে, নান্দাইল ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের দুইটি গরু মারা গেছে। তার প্রতিবেশি হারুন মিয়ারও একটি গরু মারা গেছে। মারা গেছে নান্দাইল পৌর মেয়রের একটি গরু। আর কোনা ডাংগর গ্রামের কামাল উদ্দিনের একটি বিদেশী জাতের গাভীসহ একটি বাছুর। তাঁর প্রতিবেশী পারভিন আক্তারের ২টি, শান্তা বেগমের ৩টি, সালামের ১টি, মোস্তুফা মিয়ার ৩টি, শহীদ মিয়ার ২টি ও মন্নাছের ২টি, রসুলপুর গ্রামে আজিজুল, রশিদ, নাসিম, সুরুজ, আনিসুল, আমিনুল, কাদির ও সামছুরসহ এই উপজেলায় প্রত্যেকটি গ্রামেই কয়েক হাজার গরু-বাছুর এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
    গরু মারা যাওয়ার বিষয়ে জালাল উদ্দিন বলেন, তার দুটি গরু হঠাৎ এই রোগে আক্রান্ত হয়। হাতে টাকা না থাকায় কবিরাজের কাছ থেকে তাবিজ এনে গরুর পায়ে বেধে দিয়েছেন। পানি পড়া দিছেন। গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে ১৮ হাজার টাকা খরচও করেছেন। কিন্তু দুইটা গরুই মারা যায়। রসুলপুর গ্রামের রেজাউল বারী রঞ্জু বলেন, তার ষাড় গরুটির দাম প্রায় লাখ টাকা। লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হওয়ার পর অনেক ঔষুধ খাইয়েছেন। কোন কাজ না হওয়ায় এখন আশা ছেড়ে দিয়ে কবিরাজের পরামর্শে পায়ে তাবিজ বেধে রেখেছেন। সেই সাথে খাওয়াচ্ছেন পানিপড়াও, দিচ্ছেন ঝাড়ফুঁক। তাঁদের প্রত্যেকের অভিযোগ প্রাণী সম্পদ বিভাগের কেউ কোনো ধরনের খোঁজ খবর নিচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ৪২ জন ষ্টাফ রয়েছে। অথচ গরুর এই মহামারিতে মাসান্তে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েও তাঁরা তাঁেদর দায়িত্ব পালন করছেন না।
    নান্দাইল উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন উজ্জল হোসাইন বলেন, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৬০ হাজার গরু-বাছুর রয়েছে। প্রতিদিনই লাম্পিং স্কিনে আক্রান্ত হচ্ছে গরু-বাছুর। এতদিন ভ্যাকসিন সল্পতার কারণে আমরা কাজ করতে পারিনি। এখন স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে সুস্থ্য গরুর জন্য ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারপরও অফিসে প্রতিদিন শতশত গরু নিয়ে আসে। সেগুলোর চিকিৎসা করতে হয়। তবে প্রয়োজন পরলে মাঠে যাওয়ার দাবি করেন তিনি। উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মলয় কান্তি জানান, এটা ভাইরাস জনিত একটা রোগ। মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গের মাধ্যমে গরুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। গরু খাওয়া বন্ধ করে দেয়। শরীরে প্রচন্ড জ্বর আসে। পাশাপাশি গরুর শরীরে বসন্তের মতো গুটি গুটি চাকা দেখা দেয়। পরে সেখান থেকে পুঁজ জমে ফেটে গিয়ে মাংস খসে পড়ে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *