জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মেয়রের সঙ্গে কাউন্সিলরদের সংঘর্ষ আহত ১০

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২০

সোলায়মান হোসেন হরেক ,সরিষাবাড়ী :

দুর্নীতি ও বকেয়া বেতন ভাতা নিয়ে জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌর মেয়র রুকুনুজ্জামানের সঙ্গে কাউন্সিলরদের বিরোধ প্রকাশ্যের রূপ নিয়েছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভা কার্যালয় মেয়র ও কাউন্সিলরদের হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি, হামলা ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘ ৪ বছর ধরে মেয়র রুকুনুজ্জামান কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা কর্মচারিদের তোয়াক্কা না করে একক আধিপত্য চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারি ১৭ মাসের ও কাউন্সিলরদের ১৫ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রেখেছে মেয়র। এ বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিল কর্মকর্তা-কর্মচারি ও কাউন্সিলররা। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারি ও কাউন্সিলরদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে আসছে। একপর্যায় সম্প্রতি (১মে)অনিয়ম দুনীতির অভিযোগে মেয়র রুকুনুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেন এবং পৌরসভায় প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন ১২ জন কাউন্সিলর। কাউন্সিলরদের এ সব নিষেধ তুয়াক্কা না করে রোববার মেয়র তার দলবল নিয়ে পৌরসভা কার্যালয় প্রবেশ করেন। এ সময় মেয়রের কাছে বকেয়া বেতন ভাতা দাবি করেন কাউন্সিলররা। এ নিয়ে মেয়র ও কাউন্সিলরদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায় মেয়রের ক্যাডার বাহিনীরা কাউন্সিলরদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের মারধর করে। এ হামলা চলাকালে যুবলীগ নেতা সুমন চাকলাদার পৌরসভায় ঠিকাদারি কাজে আসলে তাদের ওপর হামলা চালায় মেয়র ও তার ক্যাডাররা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভা কার্যালয় কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী বলেন, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারি ও কাউন্সিলরদের বকেয়া বেতন ভাতা দাবি করলে ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়র ও তার ক্যাডাররা হামলা চালায়। এতে কাউন্সিলর জহুরুল ইসলাম, কালা চান পাল ও মোহাম্মদ আলী আহত হন।
মেয়র রুকুনুজ্জামান বলেন, আমি পৌরসভায় যাওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় কাউন্সিলররা। পরে কাউন্সিলররা ও স্থানীয় কতিপয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে আমাকে এবং আমি হামলা করিনাই আমার লোকজনকে মারধর করেছে।