জার্নাল ডেস্ক
6 May 2020
  • No Comments

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে ডেসপাস প্রোগ্রামের নিম্নমানের চাল খাদ্য গুদামে

    নিজস্ব প্রতিবেদক: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে ডেসপাসের খাওয়ার অযোগ্য নিম্নমানের চাল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খাদ্যগুদাম সংশ্রিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। পরিবহন ঠিকাদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) এই অনিয়মের সাথে জড়িত বলে একটি সুত্র বলছে। তবে ওসি এলএসডি বলছেন, তাঁর গুদামে ডেসপাসের প্রবেশকৃত চালের গুনগতমাণ দেখার বিষয় তার না। এগুলো দেখার দায়িত্ব উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের।এছাড়া কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ভার চাল সরবরাহকারী খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ও পরিবহন ঠিকাদারের ।
    অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল হতে হিলি খাদ্যগুদাম থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাকে করে ১৮০ টন চাল পাঠানো হয় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে । চাল নিম্মমানের জেনেও ওসি এলএসডি রফিকুল ইসলামের নির্দেশমতো ট্রাকের চাল খালাস করা হয় গুদামে। এই চাল সরবরাহের জন্য একটি লিখিত নির্দেশনামা তাঁদের দেওয়া হয়েছিল। যেটি প্রাপক খাদ্য গুদাম কর্মকতা তা বুঝে নিয়েছেন ওসি এলএসডি ।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, মনে হচ্ছে চাল বদলের কারণেই এ অবস্থা। ভালোমানের চাল পূর্বনির্ধারিত কোথাও বিক্রি করে দিয়ে নিম্নমানের চাল ঢোকানো হয়েছে। তবে এ কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও খাদ্য কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারে। কিছু গুদাম কর্মকর্তা পরিবহন ঠিকাদারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই অনৈতিক কাজটি করে থাকেন।আর এ কাজের সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো ডেসপাস প্রোগ্রামের সময়।
    চট্রগামের পরিবহন ঠিকাদার আমিন এন্ড ব্রাদার্স ছাড়াও একাধিক প্রতিষ্ঠান এই চাল পরিবহনের দায়িত্ব পেয়েছে।
    ঠিকাদার আমিন এন্ড ব্রাদার্স এর সত্বাধিকারী আমিনুর হক জানান, তাদের কাজ চাল এক কেন্দ্র হতে অন্য কেন্দ্রে পৈাছানো । চাল পরিবহনে কোন ধরনের অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে তার প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে বলেন।
    কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক শহিদুল্লাহ পরিবহন ঠিকাদারদের চাল বদলের বিষয়টি স্বীকার করেন বলেন, এই গুদামে খালাসকৃত চাল বদলের কিনা তিনি সঠিক জানেন না। তার কাজ গুদামে প্রবেশকৃত চালের গুনগতমাণ পরিদর্শন করে তা বইতে লিপিবদ্ধ করা । ভালো মানের চালের ক্ষেত্রে গ্রেড-৩ ,মাঝারি মানের জন্য গ্রেড-২, খারাপ মানের জন্য গ্রেড ১ মান ধরা হয়। তবে তার পরিদর্শন বই অনুসন্ধানে দেখা যায় গ্রেড-২-১ মানের কোন চাল মাদারগঞ্জ খাদ্য গুদামে নেই।
    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহবুবুল আলম বলেন, মাদারগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। যে কারনে চালের গুনগত মানের বিষয়টি সঠিকভাবে দেখা সম্ভব হয়ে উঠে না। চালের বিষয়টি গুদাম কর্মকর্তা অধিকাংশ সময়ে দেখে থাকেন।
    এ ব্যাপারে জামালপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো.আল ওয়াজিউর রহমান বলেন, ডেসপাস প্রোগ্রামের চাল খাদ্য গুদামে প্রবেশের পরে যদি মনে হয় চালের মান ভালো না তবে সেটাকে আইসোলেট করে রাখতে হবে । তাৎক্ষনিক ওই চাল গ্রহন না করার কোন বিধান নেই। পরবর্তীতে আইসোলেটকৃত চাল তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *