ময়মনসিংহে সচ্ছল নেতার পরিবারের ১১জন হতদরিদ্র কর্মসুচীর তালিকায়

প্রকাশিত: ৩:২৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২০

মজিবুর রহমান ফয়সাল,নান্দাইল, ময়মনসিংহ॥ নান্দাইলে আওয়ামী লীগের এক নেতার দুই স্ত্রী, পুত্র, শশুর ও ভাই সহ ১১ নিকট আত্মীয় হতদরিদ্র কর্মসুচীর উপকারভোগীর তালিকায় নাম রয়েছে। এরা সবাই ১০ টাকা কেজি দরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০ কেজি করে চাল ক্রয় করেছেন। অথচ নেতার বাড়ির আশপাশে খেয়ে না খেয়ে আছেন অনেক হতদরিদ্ররা। এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন।
জানা গেছে, ওই নেতার নাম সাইদুল ইসলাম (৪৫)। তিনি গাংগাইল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি তালজাঙ্গা গ্রামের আব্দুল আজিজের পুত্র। হতদরিদ্রদের তালিকা করার সময় দলীয় লোক হিসেবে ওই নেতা দায়িত্বে ছিলেন। তাই তিনি তাঁর পরিবারের নাম দিতে ভুলেননি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাংগাইল ইউনিয়নে চারজন ডিলারের মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকাভুক্তদের চাল বিতরণ করা হয়। ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বাংলাবাজারে অবস্থিত ডিলার ইকবাল হোসেনের দোকান থেকে চাল ক্রয় করেন। ওই ডিলারের দোকানে গিয়ে উপকারভোগীদের নামের তালিকা ঘেঁেট দেখা যায়, ১১০৭ নাম্বার কার্ডটি নেতা সাইদুল ইসলাম নিজেই। ১০৮২ তাঁর প্রথম স্ত্রী পারভিন আক্তারের। ১১৩১ দ্বিতীয় স্ত্রী সাজেদা আক্তারের। ১০৮৩ নেতার পুত্র জাকারিয়ার। জাকারিয়া স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে চাকরি করেন। ১০৮৪ নেতার শ্বশুর আব্দুল কাদিরের। ১০৭৮ নেতার ঘনিষ্ঠ আতœীয়ার নামে। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরের স্ত্রী। ১০৯৫ নেতার ভাইয়ের নামে। এছাড়া নেতার ভাতিজা ও ভাইয়ের স্ত্রীর নামে উপকারভোগী কার্ড রয়েছে বলে গ্রামের লোকজন সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইদুল ইসলাম বলেন, কার্ডগুলো উদৃত্ত হয়েছিল। পরে এগুলো ফেরত যাচ্ছে দেখে তাঁর কিছু দরিদ্র আত্মীয়ের নামে করে দেন। তাছাড়া আমিও তো গরিব মানুষ। জমিজমা কিছুই নেই। যা আছে তা দিয়ে কোনো মতে চলি। গ্রামে আরও হতদরিদ্র মানুষ রয়েছে। তাঁদের দেননি কেন-প্রশ্ন করা হলে সাইদুল ইসলাম বলেন, ওই সময় তাঁদের ভোটার আইডি কার্ড আমার কাছে ছিল না। গাংগাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আতাউল করিম বাবুল বলেন, হতদরিদ্রদের বাদ দিয়ে দলের একজন স্বচ্ছল নেতার পরিবারের নিজেদের নামে চাল ক্রয়ের কার্ড থাকা মানে সোজা অনিয়ম। এ বিষয়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসচি পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুর রহিম সুজন বলেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে কিছু কিছু এলাকায় অসঙ্গতির কথা শুনা যাচ্ছে। এই দিকটা বিবেচনা করে সব ইউনিয়নে নতুন করে তালিকা তৈরি করা হবে।