গৌরীপুরে সরকারী চাল নয়ছয়ে হরিলুট ! ডিলার বরখাস্থ

প্রকাশিত: ৬:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় সরকারী চাল নিয়ে একটি সিন্ডিকেট নয়ছয় করে হরিলুট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে ভুক্তভোগী মহলে।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর এ সিন্ডিকেট চক্রের মূল হোতা। স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের আরো ৫ নেতার যোগসাজসে এ চক্রটি র্দীঘদিন যাবত খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের নামে এসব চাল নয়ছয় করে হরিলুট করে আসছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা খাদ্য গুদামের প্রায় প্রতিটি খামালে মজুদ চালের ঘাটতি রয়েছে। খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী ও টিআর, কাবিখা প্রকল্পের চাল নয়ছয় করে গুদামে রেখেই তারা ওইসব প্রকল্পের চাল উত্তোলন দেখিয়ে সংশ্লিষ্টদের যোগসাজসে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ফলে র্দীঘদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে এ সিন্ডিকেট চক্রের সরকারী চাল লুটপাট।
সূত্রের দাবি, এ উপজেলার সাবেক খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সোহেল রানা ও ইশরাত আহম্মেদ পাপেলের সময়কাল থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারী চাল নয়ছয়ে হরিলুট কার্যক্রম শুরু হয়।
সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক ধান ও চাল ক্রয় অভিযানে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ উঠে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর ও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। ফলে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি খাদ্য অধিদপ্তরের এক র্শীষ কর্মকর্তা সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট মিলগুলো পরিদর্শন করেন। এতে অনিয়ম ধরা পরলেও ক্ষমতাসীন দলের উপর মহলের জোর লবিংয়ে বিষয়টি এখন ধামাচাপার পথে।
সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত শনিবার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরে চাল তালিকাভুক্ত উপকারভোগী ৬০ জন র্দীঘ ৪ বছর চাল না পাওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা সংশ্লিষ্ট ডিলার রুকনুজ্জামান পল্লবের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সেঁজুতি ধর সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পান। পরে পরিস্থিতি বেগতিক হলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব ওই ডিলারকে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়।
এসব অভিযোগ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর বলেন, কোন সিন্ডিকেটের সাথে আমি পরিচিত নই। তাছাড়া গুদামে কোন ধরনের মজুদে ঘাটতি নেই। তবে অনিয়মের কারনে একজন ডিলারকে ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর বলেন, ইতিমধ্যে একজন ডিলারকে অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়েছে। তবে অন্য অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।